ধর্মঘট প্রত্যাহারে পণ্য পরিবহন শুরু অচলাবস্থা কেটেছে
চট্টগ্রাম বন্দরের বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণায় অচলাবস্থা কেটেছে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারবাহী প্রাইম মুভারের ব্যস্ততায় পুরোনো চেহারায় ফিরেছে বন্দর এলাকা। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে বন্দরে পণ্যবাহী গাড়ি আসা-যাওয়া শুরু হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে। এদিকে দফায় দফায় ধর্মঘটের কারণে বন্দরে যে জট তৈরির শঙ্কা ছিল তা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে তৈরি হয় অচলাবস্থা। বন্দরের ভেতরে ও বাইরের ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) কনটেইনার পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আমদানি-রপ্তানির পণ্য নিয়েও ব্যবসায়ীরা ছিলেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। বিশেষ করে পোশাক কারখানা মালিকরা পড়েছিলেন বিপাকে। ধর্মঘটের কারণে কোন পণ্যবাহী গাড়ি বন্দরের ভেতওে যেতে পারেনি, পাশাপাশি পণ্যবাহী কোন গাড়ি বন্দরের ভেতর থেকে বের হতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে কনটেইনার জটেরও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বুধবার দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের কারণে পণ্য আনা-নেয়ায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বন্দরে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তি নেমে এসেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, বন্দরের ভেতর প্রায় ১ হাজার পণ্যবোঝাই করা গাড়ি ধর্মঘট প্রত্যাহারের অপেক্ষায় ছিল। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সেগুলো বন্দর থেকে বের হতে শুরু করে। এরপর খালি গাড়ি বন্দরে ঢোকানো হয়। যদিও পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের ভেতরে টার্মিনাল, জেটি ও শেডের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ এবং পণ্য নিয়ে গাড়ি বের হওয়া শুরু হয়। বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডিংয়ের কাজ পুরোদমেই চলছে। ধর্মঘটের কারণে আমরাও কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। দফায় দফায় ধর্মঘট চললে হয়তো বন্দরে জট তৈরির একটা সম্ভাবনা তৈরি হতো। এখন সে শঙ্কা কেটে গেছে।’ প্রসঙ্গত গত ১৮ সেপ্টেম্বর ১৫ দফা দাবিতে ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ৭২ ঘন্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ কার্ভাডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে ধর্মঘট আহবানকারী সংগঠনের নেতাদের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৫ দফা দাবিসমূহ হচ্ছে- মোটরযান মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বর্ধিত আয়কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা, সহজ শর্তে এবং সরকারি ফির বিনিময়ে লাইসেন্স দেওয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে পুনরায় হয়রানিমূলক ফিটনেস ও পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল, সব শ্রেণির মোটরযানে নিয়োজিত শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় রেশন-সুবিধার আওতায় আনা, সব বন্দরে অবস্থিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মনোনীত প্রতিনিধি এবং সব ড্রাইভার ও সহকারীকে বন্দরে হয়রানিমুক্ত প্রবেশের সুবিধার্থে বার্ষিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্টকার্ড দেওয়া, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা, যেখানে-সেখানে গাড়ি চেকিং না করা, পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সব ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ, প্রতি ৫০ কিলোমিটার পরপর পণ্য পরিবহনে শ্রমিকদের জন্য দেশের সড়ক ও মহাসড়কে বিশ্রামাগার ও টার্মিনাল নির্মাণ, সড়ক দুর্ঘটনায় অথবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এককালীন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
# ২২.০৯.২০২১ চট্টগ্রাম #