নিরাপদ সড়ক: এবার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি গাড়ির চাপায় আজ বৃহস্পতিবার এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় ঢাকায় নটরডেম কলেজের একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিনএই ঘটনা ঘটলো।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ চন্দ্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, বেলা আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
মৃত ব্যক্তি আহসান কবির খান মোটরসাইকেলের পেছনে আরোহীর আসনে বসা ছিলেন।
তিনি জানিয়েছেন, “ময়লার গাড়িটি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়েছে, নাকি তিনি কোনভাবে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সেটি প্রত্যক্ষদর্শীরা ঠিক বলতে পারেনি। তবে উত্তর সিটির কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িটি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় পান্থপথে ওই মোটরসাইকেলের আরোহীকে রাস্তায় তার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। এর ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।”
আহসান কবির খান দৈনিক প্রথম আলোর পেস্টিং বিভাগের একজন সাবেক কর্মী ছিলেন।

তিনি ১৯৯৮ সালে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছেন।
প্রথম আলোর মানবসম্পদ বিভাগ থেকে সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আহসান কবির খান পরের দিকে তৈরি পোশাক শিল্পের এক্সেসোরিজের ব্যবসায় যুক্ত হন।
পরিতোষ চন্দ্র জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই ময়লার গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।
গতকাল দুপুর বারোটার দিকে সকালের শিফটে ক্লাস শেষ করে বাড়ির ফেরার পথে গুলিস্তানে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় মারা যান নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান।

এই ঘটনায় ময়লাবাহী গাড়িটির আসনে চালকের বদলে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ তাকে গতকালই গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর সড়কে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সেই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে।
নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। এছাড়া ফার্মগেট, শান্তিনগরেও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
দু’হাজার আঠারো সালে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ নামে শিক্ষার্থীদের যে নজিরবিহীন আন্দোলন হয়েছিল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেই সময়কার দাবিগুলোর কথা উল্লেখ করছেন।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা