চলমান সংবাদ

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, ৪ পুলিশসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

-মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে ৪ পুলিশসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে

 বুধবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরিফুল ইসলামের আদালতে নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ওয়ার্ডমাস্টার কামরুল ইসলাম মামলাটি করেন। আদালতে বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিরা হলেন- নগরের বন্দর থানার সাবেক ওসি ও নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহমুদ, বন্দর বিভাগের সাবেক সাবেক এসআই ও বর্তমানে আকবরশাহ থানার এসআই রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া, বন্দর বিভাগের সাবেক এএসআই বর্তমান সিলেট এপিবিএন কেএম জান্নাত সজল, নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এসআই মঙ্গল বিকাশ চাকমা, বন্দর এলাকার বাসিন্দা জামাল ফরাজী ও মিলন ফরাজী। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দিশা ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বাদীসহ তাঁর পরিচিত ৩০-৩৫ জন মাসিক হারে সঞ্চয় খোলেন। ২০১৬ সালে গ্রাহকদের সঞ্চয় নেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত অফিসে গিয়ে বন্ধ পান। সেখান থেকে ৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে জামাল এবং মিলন পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়। একটি চুরির মামলায় ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাকে নগরের আগ্রাবাদের হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানা পুলিশ। পুরো শহর ঘুরিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। পরে তাকে এই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিন পর কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। সেই চুরির মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়। মামলার বাদী কামরুল ইসলাম জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশ কর্তৃক তাকে বিভিন্ন সময় হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ২০১৯ সালে পুলিশ কমিশনার ও আইজিপি বরাবর আবেদন করেন তিনি। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং ন্যায় বিচার না পাওয়ায় বুধবার আদালতে এসে মামলা করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মামলার বাদীর আইনজীবী জুয়েল দাস বলেন, কামরুল ইসলামকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এই অভিযোগে ৪ পুলিশসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন # ১৯.১০.২০২২ চট্টগ্রাম #