চলমান সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: আগামী ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্রগুলো। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি ও সরকার-সংশ্লিষ্টদের মতামত অনুযায়ী, ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। তবে যদি কোনো কারণে ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব না হয়, তাহলে তা এক মাস পিছিয়ে জানুয়ারির মধ্যে হতে পারে। কারণ, ফেব্রুয়ারিতে রমজান এবং ঈদুল ফিতরের কারণে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি কমপ্লেক্স হয়ে পড়বে। বর্ষাকালেও নির্বাচন আয়োজন কঠিন হওয়ায় ডিসেম্বরের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, দ্য ডেইলি স্টারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অক্টোবরের দিকে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিসেম্বরে নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপি এবং বাম গণতান্ত্রিক জোট জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করাকে সমর্থন না করলেও, জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলন গোষ্ঠী স্থানীয় নির্বাচন আগে করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গত ডিসেম্বরে এক ভাষণে বলেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হতে পারে, তবে যদি আরও কিছু সংস্কার প্রয়োজন হয়, তবে নির্বাচন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি হতে পারে।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসন এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন, তবে এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করবে। নির্বাচনী সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হতে পারে।