শাশুড়ির মৃত্যু সংবাদে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে গিয়ে মা-ছেলের প্রাণহানি, ভাই গুরুতর আহত
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, আইরিন সুলতানার বাবা মারা যান, যার পরেই তিনি কক্সবাজারের রামুতে নিজের বাড়িতে যান। আর ৯ দিন পর তাঁর শাশুড়ি ফাতেমা বেগম (৬৫) মারা যাওয়ার খবরে শ্বশুরবাড়ি ফিরছিলেন আইরিন, সাথে ছিল তাঁর ৬ মাস বয়সী ছেলে আহসান। কিন্তু ফেরার পথে ভোররাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মা-ছেলে।
এ দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টার দিকে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং গয়ালমারা স্টেশন এলাকায়। একি ঘটনায় গুরুতর আহত হন আইরিনের ভাই আবির (১৭), যিনি কলেজ পড়ুয়া।
আইরিন সুলতানা (৩০) কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান (৩নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার মো. নোমানুর রশিদের (৩৪) স্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁদের সামাজিক বিয়ে হয়েছিল।
আইরিন ও তাঁর সন্তান আহসানের মৃত্যুতে শ্বশুরবাড়ি এবং এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইরিনের স্বামী নোমানুর রশিদ তার স্ত্রী, মা এবং একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নোমানুর রশিদের ভাই আমিনুর রশীদ বলেন, “আমার মা রাতে মারা যান, তার পর ভাইকে জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু আসার পথে তার স্ত্রী ও ছয় মাস বয়সী সন্তান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।”
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে গাড়ি চালক, মালিক, শ্রমিক এবং যাত্রী সবাই সচেতন থাকেন।
চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন জানান, বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে মায়ের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
# কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা | সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫