চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত
গত কাল ২৬ মার্চ ২০২৫ চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। ইফতার পার্টিটি অনুষ্ঠিত হয় ক্লাব মেরিনা শাহজাহান আর্কেড, সদরঘাট, চট্টগ্রাম এ।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: সেলি এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ পারভেজ। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও রাবেয়া বশর জনকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত।
এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বেসরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, বি কে কনভেনশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাকির হোসেন, আলমগীর কনভেশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলমগীর এবং বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাহাংগীর, অর্থ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, ক্রিড়া সম্পাদক মো: মাহাবুব, আপ্যায়ন সম্পাদক বাবুল সরকার, কাজির দেউরি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল গণি, মো: সুমন, শাকিল, বাচ্চু মিয়া, মো: খলির, হোটেল এন্ড রেস্টরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ হনিফ, সাধারণ সম্পাদক নূর আলম প্রমুখ।
উক্ত ইফতার পার্টিতে বক্তারা কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের কর্ম পরিবেশের উন্নতির বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, কমিউনিটি সেন্টারের শ্রমিকরা যেভাবে কাজ নাই মজুরি নাই (কানামনা) পদ্ধতিতে কাজ করে, তা তাদের অধিকার ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে বয় ও সুপারভাইজারদের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভূ’ক্তির নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা সুষ্ঠু এবং সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে।
সামনে ঈদুল ফিতর আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা আরও বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকেরা পুরো রমজান মাস বেকার তথা আয়-রোজগারহীন থাকেন। ঈদের বোনাসও তারা পান না। এইভাবেই প্রতি বছর কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকেরা ঈদ পালন করে। অথচ, এই ব্যাপারে রাষ্ট্র ও মালিক পক্ষ নির্বিকার। যেন তাদের কোন দায় নেই। এটি একটি নির্দিষ্ট পেশার শ্রমিকদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ।
১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা এবং সহস্রাধিক শহীদের রক্তে অর্জিত ২০২৪ সালের স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের মূল চেতনা হচ্ছে একটি শোষণমুক্ত এবং বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকদের জন্য এই বৈষম্য দূর করতে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং তাদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও মালিক পক্ষের প্রতি দাবি জানানো হয়।
বক্তারা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টারগুলোর কর্মপরিবেশ উন্নত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই আয়োজনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জীবনমানের উন্নতি সাধনে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।