মতামত

বাংলাদেশে স্টিল মিল ও রিরোলিং শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র

-ফজলুল কবির মিন্টু

ফজলুল কবির মিন্টু
সংগঠক, টিইউসি, কেন্দ্রীয় কমিটি

বর্তমানে বাংলাদেশে স্টিল মিল এবং রিরোলিং শিল্পে শ্রমিকদের কর্মপরিসরের অবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা না হওয়ার কারণে এসব শিল্পে কাজ করা শ্রমিকরা শোষণ, বঞ্চনা ও  চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

মালিক পক্ষের অবহেলার কারণে এসব কারখানার কার্যক্রম অনিয়মিত হয়ে থাকে। কারখানা বন্ধ থাকার সময় শ্রমিকদের মজুরি প্রদান না করা, কিংবা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া মৌখিক নির্দেশে শ্রমিকদের কাজ থেকে বের করে দেয়া এখানে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এটি সরাসরি শ্রমিকদের অধিকার ভঙ্গের একটি উদাহরণ। জোর পূর্বক ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে শ্রমিকদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার ফলে শ্রমিকরা কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা পায় না, ফলে তাদের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত হয়।

কারখানার কাজের পরিবেশও অত্যন্ত কষ্টকর। শ্রমিকদের প্রতি ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হয়, তাদের মাসিক মজুরি নির্ধারন হয় দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ হিসাব করে ফলে তারা ওভারটাইম ভাতা থেকেও বঞ্চিত হয়। এর সাথে সাথে, কাজের পরিবেশে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা বা অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় শ্রমিকেরা নিজেরা চাঁদা তুলে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের সহায়তা করে থাকে। সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা বিলম্বিত হয় এবং এমনকি মৃত্যুও ঘটে। এটি এত বেশি ভয়ংকর ও দুর্ঘটনা প্রবণ শিল্প যে, প্রত্যেক শ্রমিকের গায়ে আহত হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

শ্রমিকেরা অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কাজ করে কিন্তু  শ্রম আইন ও বিধি অনুসারে বিরতি কিংবা স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করার ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, কিন্তু এই বিষয়ে মালিকদের যেন কোন দায়িত্ববোধ নেই।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রমমানের আলোকে, এই সমস্ত কার্যক্রম পরিষ্কারভাবে আইন লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করা যায়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই ধরনের অবস্থা পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন কার্যকর তদারকি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ।

এমনকি এই শিল্পে কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে, তাদের দুর্দশা বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(লেখকঃ সংগঠক, টিইউসি, কেন্দ্রীয় কমিটি)